রাশিয়া বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮

মাকসুদা লিসাঃ আশা ছিল। স্বপ্ন ছিল। প্রত্যাশার বুননের রঙ ছিল লাল। সেই রঙ ফিকে হয়ে গেল। ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে নতুন চ্যাম্পিয়ন হবার তাগিদও ছিল। এত কাছাকাছি আসা। তবু দূরত্ব ঘুচলোনা। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির যোগফল মেলাতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। পেরেছে ফ্রান্স। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবার মধ্য দিয়ে।

 

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখায় আশায় উন্মুখ ছিল বিশ্বের ফুটবল প্রেমিরা। ফ্রান্সের ডিফেন্স তছনছ করে ক্রোয়েশিয়া আলোর ফুল্কি ছুটাবে। প্রথমবারের মত ফাইনাল খেলতে নেমেই অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে ইউরোপের এই দলটি। শিরোপার প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নামেছিল মস্কোর ফাইনালে।

 

স্বপ্নের বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে  নতুন স্বপ্ন গড়ার নেশায় মত্ত ছিল ক্রোয়েশিয়ানরা। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।  দিনটি ক্রোয়েশিয়ার ছিল না।

 

যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার কিছুই হয়নি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইএর প্রতিযোগিতা নেই। নেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মারপ্যাঁচ। ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। কিন্তু বাস্তবতা উপহার দিলো ভিন্ন কিছু।

ফ্রান্সের গোলের বন্যায় ভেসে গেল ক্রোয়েশিয়া। ফরাসিদের মুহুমুহু আক্রমণে ভেঙে পড়লো লাল-সাদা জার্সিদারিদের  শিবির।

 

ফ্রান্স অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারের ঝাপি খুলে দিল ফাইনালে। ফরাসি তরুণ্য নির্ভর ফুটবলাররা বুঝিয়ে দিলেন দুই দলের মধ্যে পার্থক্যের ব্যবধান।

 

ক্রোয়েশিয়ার সাথে  ছেলে খেলাই খেলে মাঠে লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে ৪-২ গোলে ফাইনাল নিজেদের করে নিলো ফ্রান্স। এবড় প্রাপ্তি। সে সঙ্গে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন শিরোপার স্বাদ।

আরও পড়ুন  দেশে অনুমোদন পেল রাশিয়ার টিকা

মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে রোববার (১৫ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় মুখোমুখি হয় ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া।

রাশিয়া বিশ্বকাপের এমাসের যবনিকা ঘটলো সেসঙ্গে।  বিশ্বকাপের পর্দা নামলো মনোজ্ঞ এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

 

ফাইনাল ম্যাচে অনেক কিছুই দেখলো বিশ্ব। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার মারিও মান্দজুকিচের ফ্রান্সকে উপহার দিয়েছেন আত্মঘাতি গোল। প্লান্টি শুট আউট, ফ্রি কিক থেকে গোল। ফাইনালে ৪-২ গোলে (ছয়) গোলের রেকর্ড। এত ঘটনা, এত রেকর্ড।

 

ফ্রান্সের গোল গুলো ছিল চোখ ধাধালো। চোখের পলকে কিকে বল জালে পৌছে দেবার নান্দনিক এক কারিশমা।

ফাইনালে নতুন দল ক্রোয়েশিয়া। তবে যতটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচকে ঘিরে ততটা লড়াই জমে উঠেছি। বলতে গেলে ফ্রান্স একেটিয়া প্রধান্য বিস্তার করেই চ্যাম্পিয়ন হরার দৌড়ে এগিয়ে গেছে। অভিজ্ঞতার যে খেলায় বাড়তি শক্তি যোগায়।

তা প্রমান করে দেখিয়ে ফ্রান্স। খেলার প্রথমার্ধের পর ম্যাচে আর সেভাবে ফিরতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া।
ফাইনালের প্রথমার্ধ কিছুটা আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ ছিল। কিন্ত বিরতির পর ম্যাচ একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে রাখে ফ্রান্স।


ম্যাচ শুরুর ১৮ মিনিটেই ক্রোয়েশিয়ার ফাউলের কারনে ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। আঁতোয়া গ্রিজমান ফ্র-কিক থেকে প্রতিপক্ষের মারিও মান্দজুকিচের মাথা ছুয়ে বল চলে যায় নিজেদের জালে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফাইনালে এটি প্রথম আত্মঘাতী গোল।

ক্রোয়েশিয়া চমৎকার ভাবে সমতায় ফিরে আসে ১০ মিনিটের ব্যবধানেই। ২৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ফ্রি কিক শট ফরাসি ডিফেন্স ক্লিয়ার করতে না পারায় বল চলে যায় ইভান পেরিসিচের কাছে।
ইভান এনগোলে কান্তের কাছ থেকে বল পেয়ে চোকের পলকে জোরালো শটে বল পৌঁছে দেম গোলবারে। বিরতির আগে আবারও ফ্রান্সের আক্রমণ।

আরও পড়ুন  ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি সিলেট অফিসে এডভোকেট দিলু সংবর্ধিত

ম্যাচের ৩৫ মিনিটে কর্নার কিক থেকে আসা বল ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার ইভান পেরেসিচ ক্লিয়ার করতে গিলে তার হাত ছুয়ে যায়। রেফারি ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ফ্রান্সের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ফ্রান্স পেয়ে যায় পেনাল্টি।

৩৬ মিনিটে গ্রিজমান পেনাল্টি থেকে গোলটি করে ২-১ এদিয়ে দেন দলকে।

 

বিরতির পর আক্রমণ জোড়ালো করে ফরাসিরা। একের পর এক আক্রমণে ক্রোয়েশিয়ার ডিসেন্স ভাঙ্গে এগিয়ে যায় প্রতিপক্ষের ডি বক্সের ভেতরে।

৫৯ মিনিটে ফ্রান্স আবারও ব্যবধান বাড়ায়। জটলা থেকে পল পগবা জোরালো শটে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ৩-১ ব্যবধানে।

 

ক্রোয়েশিয়ার জালে ফরাসি তরুণ স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে চতুর্থ গোল পাঠান পরের ৬ মিনিটের মাথায়। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্স এগিয়ে যায় গোলে ৪-১ ব্যবধানে।


তবে হঠাত ৬৯ মিনিটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লোরিসের ভুলে ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার মারিও মান্দজুকিচ গোল করে বসেন। ব্যবধান কমালেও পরাজয় ঠেকাতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ জিতে ৪-২-এ ব্যবধানে।

 

দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে ফ্রান্স। এর আগে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। সেই দলে ছিলেন সেই সময়ের তারকা ফুটবলার জিনেদিন জিদান।

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ