সিলেট ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৯
এমরান আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ:আমার বয়স যখন ১০ বা ১২ বছর তখন ফেঞ্চুগঞ্জ, মাইজগাও, ভাটেরা, অতবা সিলেট যাওয়ার পথে দেখতাম রেললাইনে দল বেঁধে একদল শ্রমিক সারা বছর কাজ করতো-ঘাস পরিস্কার করে রেল লাইনের নিচের পাথরগুলো সাজিয়ে দিত।
কোথাও রেললাইনের চিপ-চাবি, জোড়া বা অন্য কোনো স্থানে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা প্রতিদিন হেঁটে পরীক্ষা করতো চাবিওয়ালা। চাবিওয়ালাদের নির্দিষ্ট কি.মি. রেললাইন পরীক্ষা করতে হতো প্রতিদিন। স্থানে স্থানে রেললাইনের পাশে চাবিওয়ালাদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট বাসস্থান ছিল যা মাইলপাশা নামে সমধিক পরিচিত। শ্রমিক বা চাবিওয়ালারা ঠিকমত কাজ করছে কি না তা তদারকি, রেললাইনে বা রেল ব্রিজে ত্রুটি আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য দুই ধরনের উর্ধতন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করতেন।
মাঝারি ধরনের কর্মকর্তারা চলাচল করতেন পুশ ট্রলিতে করে। আমরা হাসাহাসি করতাম, একজন মানুষ সামনে বসে আছে আর পেছনে ৪ জন ঘামঝরানো পরিশ্রম করে ঠেলছে।পথিমধ্যে ট্রেন চলে আসলে চারজন মিলে ধরাধরি করে ট্রলিটিকে ঝুকি নিয়ে রেললাইনের পাশে নামিয়ে রাখছে আবার ট্রেন চলে গেলে রেললাইনে উঠিয়ে যাত্রা শুরু করছে। বড় কর্মকর্তাদের জন্য ছিল মোটরট্রলি যা দ্রুত বেগে চলতো। ট্রেনের মতই মোটরট্রলিকে স্টেশনে স্টেশনে পাস দেওয়া হতো।
এখন অার চাবিওয়ালা, মাইলপাশা, পুশট্রলি বা মোটরট্রলির দেখা নাই, তাহলে রেললাইন বা রেল ব্রিজের নিরাপত্তা কেমনে পাই? রেললাইনে কোন অঘটন বা এক্সিডেন্ট হলে কেহ নিতে চায়না দায়ভার কিন্তু মাস শেষে মোটা অংকের বেতন নিতে পারেন পকেটে পুরে।
এইতো কিছুদিন আগেই বরমচাল নামক স্থানে ট্রেন দুর্ঘটনায় অনেক যাত্রী আহত ও নিহত হয়েছিলেন কিন্তু তাদের জীবনের মুল্য মাত্র ১ লক্ষ টাকা অথবা চিকিৎসা সেবা ১০ হাজার টাকা, এই ১ লক্ষ টাকা দিয়ে কি মৃত মানুষকে ফিরে পাবে তার পরিবার? বাবা পারবে কি তার সন্তানের মুখ দেখতে, স্ত্রী পাবে কি তার স্বামীর মুখ দেখতে আফসোস থেকেই যায়।
দুর্ঘটনার পর সারাদেশের রেল লাইন ও ব্রীজগুলোর নাজুক অবস্থা গণমাধ্যমে উঠে আসতে শুরু করেছে। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-সিলেট রেল লাইনটি। ব্রিটিশ আমলের পুরনো রেলব্রিজ ও ত্রুটিপূর্ণ লাইন দিয়েই বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন সিলেট বিভাগের চার জেলার কয়েক লাখ মানুষ। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই রেল লাইন থেকে মাটি সরে মৃত্যুফাঁদে পরিনত প্রতিটি স্লিপার। ত্রুটিপূর্ণ এই লাইনে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই রেল কর্তৃপক্ষের।
প্রশ্ন আছে অনেক কিন্তু উত্তর দেবে কে ?

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি