সিলেট | |
প্রকাশিত: 8:14 PM, February 3, 2020
প্রভাতবেলা প্রতিবেদক :
সিলেট মহানগরীর জেল রোডস্থ পানসী ইন রেস্টুরেন্টে গত বছরের অক্টোবরে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন এক গ্রাহক। তাৎক্ষণিক রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কোনো সন্তোষজনক সমাধান না পেয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের পর ৩ মাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক। এতে তিনি ক্ষুব্ধ ও হতাশ। ওই গ্রাহকের কাছ থেকে সেদিন পানসী ইন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার তিন গ্লাস জুসের দাম রাখেন ১৫শ’ টাকা। কিন্তু তাদের ম্যানুতে জুসের দাম ছিল প্রতি গ্লাস ১৬০-৪০০ টাকা।
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও-এর নাজিরুল আলম নামের এক বাসিন্দা ২ বন্ধুকে নিয়ে খেতে যান জেল রোডস্থ পানসী ইন রেস্টুরেন্টে। তারা ১০টি পরোটা, এক পরশন বিফ, এক পরশন মাটন, এক পরশন সবজি, তিন গ্লাস জুস, পানি ও ডাল-ভাঁজির অর্ডার করেন। খাবারের পর হাতে বিল ধরিয়ে দেন কর্তব্যরত ওয়েটার। কিন্তু বিল দেখে আঁতকে উঠেন তারা। বিলে তিন গ্লাস জুসের দাম ধরা হয় ১৫ শ’ টাকা। বিল পরিশোধের পর তারা বিলটি ম্যানুর দামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন- পুরো গড়মিল। তখনই নাজিরুল আলম বুঝে ফেলেন- তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
ম্যানু অনুযায়ী- ডালিম জুসের দাম ছিল ১৬০ টাকা হতে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। কিন্তু তাদের বিলে ধরা হয়েছে প্রতি গ্লাস ৫০০ টাকা করে। গরুর মাংসের সাথে ডাল ও ভাত মিলে ম্যানুর দাম ছিল ১২০ টাকা সেখানে তাদের বিলে ধরা হয়েছে ২৪০ টাকা। অপরদিকে মাটনের দাম যেখানে ১৬০ টাকা পানসী ইন বিল ধরেছিল ৩৪০ টাকা।
এসময় কর্তব্যরতদেরকে বিষয়টি অবগত করলে তারা জানান, জুসের মধ্যে পানি পুরানো হয়নি। তাই দাম একটু বেশি রাখা হয়েছে। তবে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার স্বীকার করেন দাম একটু বেশি রাখা হয়েছে। কিন্তু বিলের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে তারা অস্বীকৃতি জানান এবং নাজিরুল ইসলাম ও তার বন্ধুদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এদিকে, পানসী ইন রেস্টুরেন্টে প্রতারণার শিকার হয়ে এবং পরে কোনো সমাধান না পেয়ে নাজিরুল ইসলাম পরদিনই (২৯ অক্টোবর) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে গিয়ে উপ-পরিচালক বরাবারে নির্দিস্ট ফরমে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ২০১৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পেরিয়ে নতুন বছরের আরও এক মাস চলে গেলেও এ বিষয়ে কোনো সমাধান বা সুবিচার পাননি নাজিরুল আলম।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক ফখরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, ভোক্তা অভিযোগ দায়ের করার পর দ্রæত আমরা সে বিষয়ে তদন্ত করি এবং সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু নাজিরুল আলমের ক্ষেত্রে এটা কেন ঘটলো ঠিক বুঝতে পারছি না। হয়তো বেশি অভিযোগপত্র আসায় বা কোনো কারণে এটা মিস হয়ে গেছে। তবে আজই আমি বিষয়টি দেখতেছি।
প্রভাতবেলা/এমএ

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি