শীতলক্ষ্যার তীরে বিউটি-মনিকার আহাজারি

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১

শীতলক্ষ্যার তীরে বিউটি-মনিকার আহাজারি

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

মুন্সিগঞ্জের বিউটি, থাকেন নারায়ণগঞ্জে। রোববার সকালে বাবা সোলায়মান খাঁ ও মা সালমা বেগম বেবীকে ঢাকায় ডাক্তার দেখান। দুপুরে নিজের বাসায় খাইয়ে সন্ধ্যায় তাদের তুলে দেন মুন্সিগঞ্জগামী লঞ্চে। চায়না ব্রিজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায় লঞ্চটি। সেই থেকে বাবা-মার খোঁজ পেতে নদীর তীরে পড়ে আছেন।

কাঁদতে কাঁদতে বিউটি বলেন, তখন কি আর জানতাম যে বাবা-মা আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবেন? জানলে তো তাদের যেতেই দিতাম না।

বোন ও দুই ভাগনের জন্য কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন শীতলক্ষার তীরের বাসিন্দা মনিকা সাহা। তিনি বলেন, আমার বোন সুমিতা সাহা ও দুই ভাগনে বিকাশ সাহা-অনিক সাহা এই লঞ্চে করে মুন্সিগঞ্জে নিজেদের বাড়ি ফিরছিল। জানি না এখন তারা জীবিত না মৃত। জীবিত না পেলেও তাদের লাশ যেন পাই।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে সাবিত আল হাসান নামে মুন্সিগঞ্জগামী একটি লঞ্চ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা।

রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার সময় শীতলক্ষ্যা নদীর চর সৈয়দপুরের চায়না ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায় সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি। এ ঘটনায় পাঁচ নারীর লাশ ও ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস। ডুবে যাওয়া লঞ্চ ও নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক রহিম মিয়া বলেন, বাল্কহেডের ধাক্কায় খেলনার মতো ডুবে গেছে লঞ্চটি। লঞ্চের দোতলায় থাকা ১৫-২০ জন লাফিয়ে নদীতে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছে। নিচে ও কেবিনে যারা ছিল তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে আল্লাহ ভালো জানেন।

নারায়ণগঞ্জ সদরের ইউএনও নাহিদা বারিক বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন যাত্রী নিখোঁজ থাকবেন, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান চলবে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, পাঁচ নারীর লাশ উদ্ধার করতে পেরেছি। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টির কারণে আমাদের উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ