ঐতিহ্যবাহী সারদা স্মৃতি ভবন এখন সিসিকের ভাগাড়

প্রকাশিত: 3:34 PM, October 14, 2020

ঐতিহ্যবাহী সারদা স্মৃতি ভবন এখন সিসিকের ভাগাড়

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক,সিলেট♦

সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাটে সুরমার কোল ঘেঁষে গড়ে উঠা সিলেটের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পীঠস্থান ঐতিহ্যবাহী সারদা স্মৃতি ভবন এখন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে । সারদা হল প্রাঙ্গণে ফেলে রাখা হয়েছে সিসিকের বিকল গাড়িসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। মিলনায়তনের ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে বইয়ের স্তুপ। দক্ষিণ পাশের গেট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেখানে বসেছে দোকানপাট । এতে করে সারদা হলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই ভবন।

সিলেটের সংস্কৃতি চর্চার বিকাশে ১৯৩৬ সালে সুরমা নদীর তীরের চাঁদনীঘাট এলাকায় নির্মিত হয় ‘সারদা স্মৃতি ভবন’। ৩৯ শতক জমির ওপর কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের আদলে বিমলাচরণ শ্যাম মিলনায়তনটি নির্মাণ করেন। সিলেটের প্রথম এ মিলনায়তনে নিয়মিতভাবে গান, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে এসেছে। এক পর্যায়ে ভবনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বভার পায় তৎকালীন সিলেট পৌরসভা বা বর্তমান সিলেট সিটি করপোরেশন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারদা হল ও এর আশপাশ এখন পরিণত হয়েছে জঞ্জালপূর্ণ ভাগাড়ে। মূল ভবনটিও অবহেলায় নষ্ট হয়ে পড়ছে। সারদা হল কমপ্লেক্সের ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে সিসিকের বিকল হয়ে পড়া অনেকগুলো গাড়ি। আঙিনাজুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে পানির গাড়ি আর বুলডোজারের যন্ত্রাংশও। সিসিকের কয়েকজন কর্মচারীর আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে এ চত্বরে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে হল রুমে স্তুপ করে ফেলে রাখার কারণে পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগার থেকে আনা বেশির ভাগ বই-ই এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন  সিলেটে আসছেন আল্লা­মা আহমদ শফী

কেবল সারদা হলই নয়, এই ভবনের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়ি এবং সিলেট সার্কিট হাউসের অবস্থান। এসব স্থাপনার আশপাশ এলাকা দখল করে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে সিটি করপোরেশন। দিনভর নগর এক্সপ্রেসসহ সিসিকের বিভিন্ন পরিষেবার গাড়ি দাঁড় করানো থাকে এই এলাকায়। ফলে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়েন । বিকেলে সুরমা নদীর তীরে বেড়াতে আসা মানুষজনও সিসিকের গাড়ির কারণে দুর্ভোগে পড়েন।

‘সংস্কৃতি চর্চার জন্য নির্মিত এই স্থাপনা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অনৈতিক’ সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের এমন দাবীর মুখে সিসিক মেয়রও ঐতিহ্যবাহী এ ভবন থেকে সিসিকের জঞ্জাল সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এ নিয়ে কেবল সময়ক্ষেপণই চলছে।

সম্প্রতি, এই ভবনটি সংস্কার করে পুরো এলাকা নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স করার দাবি উঠলে সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ডিও লেটারও প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন  ‘লকডাউন’ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিবহন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, সিসিকের নিজস্ব কোনো পার্কিং এলাকা নেই। ফলে আমাদের গাড়িও নদী তীরবর্তী এলাকায় পার্কিং করা হয়। পার্কিং প্লেসের জন্য একটি জায়গা অধিগ্রহণের পরিকল্পনা আমাদের আছে। নিজস্ব পার্কিং প্লেস হয়ে গেলে নদী তীরবর্তী জঞ্জাল আর থাকবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ