ওসমানীতে রোগীর স্বজনকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: 12:47 AM, July 17, 2018

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজন এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইন্টার্ণ চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।

ধর্ষিতা কিশোরী নবম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি তার তার অসুস্থ নানির সঙ্গে রাতে হাসপাতালে ছিলেন। রোববার মধ্যরাতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার  দুপুরে হাসপাতাল থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসককে পুলিশ আটক করে। স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. মাকাম-ই-মাহমুদ মাহী।  তিনি  ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার মোখলেসুর রহমানের পুত্র।  ওসমানী মেডিক্যালের নাক, কান ও গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক। স্কুলছাত্রীটি তার পরিবারের সঙ্গে সিলেট মহানগরীতেই থাকেন।

স্কুলছাত্রীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ নানির সঙ্গে হাসপাতালে ছিল ওই শিক্ষার্থী। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন ওই স্কুলছাত্রীর নানি।

রবিবার রাতে ওই স্কুলছাত্রী ছাড়া আর কেউ রোগীর সঙ্গে ছিল না। রাতে ফাইল দেখার কথা বলে ডাক্তার মাহী ওই মেয়েটিকে একই ফ্লোরে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করেন। সকালে বাবা-মা হাসপাতালে আসার পর স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা তাদের জানায়।

আরও পড়ুন  ফরাসি রণকৌশলে পরাস্ত আর্জেন্টিনা

সোমবার সকাল ৮টার দিকে মেয়ের বাবা-মা ওসমানী মেডিক্যালের পরিচালকের কাছে চিকিৎসক মাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর পর হাসপাতালের চিকিৎসক, পুলিশ ও স্কুলছাত্রীর স্বজনদের মধ্যে বৈঠক হয়। বেলা দেড়টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই মাহীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ কে এম মাহবুবুল হক এ ব্যাপারে বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ওই স্কুলছাত্রীর স্বজনদের এবং ওই চিকিৎসককে নিয়ে বসি। মেয়ের পক্ষ এবং ওই ইন্টার্নের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মেয়ের পরিবারের আনা অভিযোগ মাহী অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা না হওয়ায় মাহীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। মেয়েটিকে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিকালে তদন্ত কমিটি হবে। এছাড়া সব ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ফুটেজ সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাউসার দস্তগীর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘ডা. মাকাম-ই-মাহমুদ মাহীকে আটক করা হয়েছে। স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্বে ৯ (১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। ওই স্কুলছাত্রীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ