জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী

প্রকাশিত: 2:25 PM, March 22, 2021

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী।

সোমবার (২২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান তিনি। পরে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একই সাথে সেখানে একটি গাছ রোপণ করেন বিদ্যা দেবী ভান্ডারী।

এর আগে একই দিন সকাল ১০টার দিকে দুই দিনের সফরে নেপালের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ঢাকায় এসেছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিমানবন্দরে নেপালের প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ২১ বার তোপধ্বনির পর বিমানবন্দরে নেপালের প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এটিই বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রপতি পর্যায়ের প্রথম সফর। বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী ২২ ও ২৩ মার্চ দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন।

সফরসূচী অনুযায়ী বিকালে প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন বিদ্যা দেবী ভান্ডারী। এরপর তিনি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক পর্বেরও আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ছাতকে আকিজ প্লাস্টিক লিমিটেডের শ্রমিক করোনা আক্রান্ত

সন্ধ্যায় নেপালের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উভয় রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবার ট্রানজিট ও প্রটোকল চুক্তিতে ‘অপারেশনাল লাইজেশন অব রহনপুর-সিঙ্ঘাবাদ রেলওয়ে ট্রানজিট’ চুক্তির বিষয়টি নতুন করে সংযোজন করা হতে পারে। এতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর-ভারতের মালদহের সিঙ্ঘাবাদ সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন নেপালের বিরাটনগর পর্যন্ত যাবে। মাঝে ভারতের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করবে নেপাল।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ট্রানজিট ও প্রটোকল চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় নেপালকে ৬টি পোর্ট অব কল দেওয়া হয়। এগুলো হলো চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর, বেনাপোল, বাংলাবান্ধা, বিরল ও চিলাহাটি। এসব পোর্ট অব কলে নেপালের যানবাহন পণ্য পরিবহন করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাবান্ধা ছাড়া আর কোনো বন্দর দিয়ে নেপালে নিয়মিত পণ্য আসা-যাওয়া করে না।

আরও পড়ুন  ‘ফাঁসি হলে খুশি হতাম’- খাদিজা

দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন খাত, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে।

সোমবার রাতেই রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ নেপালের প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি নৈশভোজের আয়োজন করবেন।

এ দিকে, আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) নেপালের প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি কাঠমান্ডু ফিরে যাবেন।

নেপালের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিদলে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গিয়াওয়ালি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রেসিডেন্টের অফিস ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র কর্মকর্তারা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ