নার্গিসের অবস্থা আশঙ্কাজনক: বিক্ষোভে উত্তাল সিলেট

প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৬

khadizahttps://web.facebook.com/faysal.ayyub/videos/10210493568716804/

 এমসি কলেজের ১২৪ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  এক ছাত্রীকে আরেক ছাত্র দা দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়েছে। অবিশ্বাস্য এ হামলার শিকার ছাত্রীর নাম খাদিজা আক্তার নার্গিস। সে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছে। যে ছাত্র তাকে কুপিয়েছে তার নাম বদরুল আলম। সে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা এবং খদিজা আক্তার নার্গিসের লজিং মাস্টার!

৪ অক্টোবর সোমবার বিকেলে এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে, মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে এবং হামলাকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করেছে। আহত ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।সোমবার রাতেই তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সে এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

bodrulহামলাকারী বদরুল সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে খাদিজা আক্তার নার্গিসের বাড়িতে  একসময় লজিং থাকত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম। সেখানে থাকাকালে মেয়েটির কাছে প্রেম নিবেদন করে সে। নার্গিস বারবার প্রত্যাখ্যান করে।

আরও পড়ুন  করোনায় আরও ২৩ জনের প্রাণহানি

সোমবার বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর এমসি কলেজ মসজিদের পেছনে মানুষের সামনে দা দিয়ে কোপাতে থাকে বদরুল। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন নার্গিসের চিৎকার শুনে এগিয়ে যায়। তারা নার্গিসকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়।

এ ব্যাপারে এমসি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সালেহ আহমদ বলেন, ‘কিছু ছাত্র এসে একটি মেয়েকে কুপিয়ে দুই টুকরো করে ফেলেছে বলে আমাদের জানায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে হামলাকারী যুবককে জনতার কবল থেকে উদ্ধার করে। আমরা ওই মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাই।’

প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান কবির বলেন, ‘একটি মেয়েকে কোপাতে দেখে এগিয়ে যাই। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্যের সহায়তায় আমরা মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎকরা বলেছেন, তার রক্তের প্রয়োজন। আমরা কিছু রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।’

এদিকে এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তারা কিছু সময় সিলেট তামাবিল সড়ক অবরোধ করে রাখে।বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হামলাকারী বদরুলের ফাঁসির দাবী জানায়।

আরও পড়ুন  ওসমানীনগরে ট্রাকচাপায় শিশু নিহত

বিক্ষোভ করেছে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রীরা। তারা স্থানীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে হামলাকারীর েদৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানায়।khadiza1

প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খাদিজার ওপর হামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (উত্তর) জিদান আল মুসা। তিনি জানান, জনতার সহায়তায় হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সবাই চেষ্টা করছেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ