ব্যারিস্টার মইনুলের জামিনে মুক্তি

প্রকাশিত: 3:09 PM, January 28, 2019

ব্যারিস্টার মইনুলের জামিনে মুক্তি

প্রভাতবেলা ডেস্ক: ত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। মানহানির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পর জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি।
গত রাত ৯টায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।
ঢাকার জেলার মাহবুবুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মইনুল হোসেন। সেখান থেকেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে উদ্যোগী হওয়ার মধ্যে এক টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে ২০টির মতো মামলা হয়।
এরপর ২২ অক্টোবর রংপুরের এক মানহানির মামলায় মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ১৩ জানুয়ারি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।  মানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোববার জামিন পেয়েছেন।

আরও পড়ুন  ‘সিআইডি দেখেই এটিএম বুথে ডাকাতির পরিকল্পনা ’

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মোমানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রোববার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোঃ মাসুদ রানা।

খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মানহানির অভিযোগে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা ১৫ মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এখনো একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলা বিচারের প্রক্রিয়ায় না থাকায় এসব মামলায় তার জামিনের প্রয়োজন নেই। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন ‘একাত্তরে’ টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন- ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’ মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন  গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই রোগী

এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

এরপর রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও ডিজিটাল আইনে মামলা হয়। তবে রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।|

 

সর্বশেষ সংবাদ