জামায়াত একটি দেশ প্রেমিক দল,তাদের কোন দোষ নেই : কর্নেল অলি

প্রকাশিত: 4:47 PM, May 26, 2019

জামায়াত একটি দেশ প্রেমিক দল,তাদের কোন দোষ নেই : কর্নেল অলি

মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামী নিয়ে ‘কালের কন্ঠে’ একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কর্নেল অলি আহমদ। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাতকারটি প্রভাতবেলার পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো:

কালের কণ্ঠ : একজন মুক্তিযোদ্ধা নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ২০ দলীয় জোটে থাকার ঘটনাকে কিভাবে দেখেন?

অলি আহমদ : জামায়াতের কোনো দোষ নেই। তা ছাড়া সেই জামায়াত কি এখন আর আছে? আসলে বিএনপিকে যারা দুর্বল দেখতে চায়, তারাই জামায়াত নিয়ে বেশি চিন্তা করে। আওয়ামী লীগই জামায়াতকে নিয়ে বেশি প্রোপাগান্ডা করে। কারণ হলো জামায়াতকে ইস্যু করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। আওয়ামী লীগের দোসররাই জামায়াত নিয়ে বেশি চিৎকার করে। কারণ তারা বিরোধী জোটকে দুর্বল দেখতে চায়।

কালের কণ্ঠ : তার মানে মুক্তিযোদ্ধা হলেও জামায়াত নিয়ে আপনার আপত্তি নেই?

অলি আহমদ : কোনো আপত্তি নেই। কারণ এখনকার জামায়াত ১৯৭১ সালের জামায়াত না। ১৯৭১ সালের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল না—এমন লোক এখন জামায়াত করে। তা ছাড়া এভাবে পুরো বাংলাদেশকে ভাগ করে ফেললে চলবে না। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই একজন নেতার কর্তব্য।

জাতিকে বিভক্ত করা কোনো ভালো কাজ নয়। এখন যারা জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই সবচেয়ে জামায়াত নিয়ে বেশি কাজ করেছে। ১৯৮৬ সালে এই আওয়ামী লীগই জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচন করেছে। ১৯৯৬ সালে এই জামায়াতকে নিয়েই তারা বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।

আরও পড়ুন  উজানধলের বাতাসে বাউল করিমের সুর

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মূলত জামায়াতের ছিল, যা পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ হাইজ্যাক করেছে। এখন জামায়াতের গায়ে গন্ধ আছে—এটি বললে তো হবে না। তারা এই দেশের নাগরিক। তাদের তো বিদেশে পাঠানো যাবে না। যাদের দোষ ছিল বলে বর্তমান সরকার মনে করেছে, তাদের তো ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু বিএনপি চাইছে জামায়াত জোট ছেড়ে চলে যাক।

অলি আহমদ : এমন খবর আমার জানা নেই। বিএনপি নেতারা আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি।

কালের কণ্ঠ : তাহলে ২০ দলীয় জোটে জামায়াতের টিকে থাকার বাস্তবতা এখনো আপনি দেখছেন?

অলি আহমদ : অবশ্যই আছে। ২০১২ সাল থেকেই একসঙ্গে চলছি। তা ছাড়া আর কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, যেখানে জামায়াত পাকিস্তানের সঙ্গে ছিল। ২০১৯ সালের জামায়াত রাজাকার নয়। তারা দেশপ্রেমিক লোক। তারাও এখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে। আজকেও (শুক্রবার) আমার ইফতার পার্টিতে তারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছে।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু তারা তো ’৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি।

আরও পড়ুন  খেলাফত মজলিস যুক্তরাষ্ট্র শাখা পুনর্গঠন

অলি আহমদ : ওদের তো ক্ষমা চাওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি। যাদের মাফ চাওয়ার কথা, তাদের তো সরকার ফাঁসি দিয়েছে।

কালের কণ্ঠ : জামায়াতের সঙ্গে আপনার সখ্য নিয়ে ইদানীং বাইরে নানা গুঞ্জন আছে। আপনার সঙ্গে নাকি দলটির সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে?

অলি আহমদ : আমি রাজনীতি করি। আমার সঙ্গে বৈঠক হতেই পারে।

কালের কণ্ঠ : তাহলে কি হিসাব কষা যায় যে আপনার দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ এবং জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকের বিশেষ কোনো যোগসূত্র আছে?

অলি আহমদ : অসুবিধা কী! আমি তো চোর বা ডাকাত কিছু নই। আমি একজন প্রাক্তন সামরিক অফিসার এবং একজন সফল রাজনীতিবিদ। যাঁরা এই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার কম নয়। সুতরাং এখানে গাত্রদাহের কোনো কারণ তো দেখি না।

কালের কণ্ঠ : কালের কণ্ঠকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

অলি আহমদ : আপনাকেও ধন্যবাদ

সর্বশেষ সংবাদ