পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে ভারত অনুতপ্ত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: 5:48 PM, September 17, 2020

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে ভারত অনুতপ্ত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আগাম ঘোষণা না দিয়ে পেঁয়াজ ড়োপ্টাণী বন্ধ করায় অনুতপ্ত ভারত। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বন্ধ না করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও তা আগেই জানানোর অনুরোধও ছিল। দুই দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে একটা বোঝাপড়া হয়েছিল।

কিন্তু ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সোমবার হুট করে পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপরই দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, পেঁয়াজ রপ্তানি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভারতের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তবে ভারত আগাম ঘোষণা না দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুতপ্ত বলে আমাদের জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পেঁয়াজ আমদানিকারকদের একটি গ্রুপ সব সময় ওতপেতে থাকে কখন ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা অজুহাতের অপেক্ষায় থাকে ওই চক্রটি।

আরও পড়ুন  মহানবীর অবমাননাকারীদের বিচার না করলে ভারতকে চরম মূল্য দিতে হবে : হেফাজত

সৃষ্টি করে কৃত্রিম সংকট। রাতারাতি অস্বাভাবিক গতিতে বাড়িয়ে দেয় পেঁয়াজের দাম। গত বছর পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ৩২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

ওই সময় পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজির দায়ে চট্টগ্রাম ও টেকনাফকেন্দ্রিক ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সব সময়ই তারা থাকে অধরা। কারণ, তাদের পেছনে রয়েছে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করছে এমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি)। জানতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে পুরনো সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়েছে।

পেঁয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গত বছর একটি চক্র মানুষকে জিম্মি করে অর্থ লুট করেছিল। এদের চিহ্নিত করার পরও ওই সময় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়নি। যে কারণে এবারও তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেঁয়াজের নতুন মৌসুম আসতে এখনও ৬ মাস বাকি। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে নতুন দেশি পেঁয়াজের জন্য।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ