সাহেদ প্রতারণা জগতের আইডল : র‌্যাব

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

সাহেদ প্রতারণা জগতের আইডল : র‌্যাব

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

 

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ প্রতারণার জগতে একজন আইডল। প্রতারণাকে সে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের ভাবনার অতীত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঠগবাজি করে কীভাবে একটি পর্যায়ে চলে গেছে, যা একটি অনন্য খারাপ দৃষ্টান্ত সাহেদ বলে মন্তব্য করেছে র‌্যাব।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যাম শাখার পরিচালক লে. ক. আশিক বিল্লাহ।

 

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, যেকোনও সময়, যেকোনও মুহূর্তে সাহেদকে গ্রেফতার করা হবে। পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে সারাদেশের পাশাপাশি সীমান্তেও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। যাতে কোনোভাবেই সাহেদ দেশ ত্যাগ না করতে পারে।

 

আশিক বিল্লাহ বলেন, একটি বিষয় স্পষ্ট করে সবাইকে জানাতে চাই, সাহেদের পাসপোর্ট আমাদের কাছে। আমরা জব্দ করেছি। সে যদি দেশ ত্যাগ করতে চায়, তাহলে সেটা তার জন্য অবৈধ পন্থা হবে। সে যাতে কোনোভাবেই দেশত্যাগ না করতে পারে, সেজন্য আমাদের আইনশৃঙ্কলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।

আরও পড়ুন  করোনা আপডেট ২২ জুন: নতুন শনাক্ত ৩৪৮০, মৃত্যু ৩৮

 

সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাবের কাছে আরও অভিযোগ রয়েছে, রিজেন্ট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের জাল সনদ দেওয়া হতো। র‌্যাবের পরিচালক আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। যে সনদগুলো শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে, তা জাল। এই সনদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিজীবন ও শিক্ষা জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

সাংবাদিক, রাজনীতিক, আমলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাহেদের ছবি থাকার বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সাহেদের ছবির বিষয়ে আমাদের ধারণা থাকা দরকার। কারও সঙ্গে কারও ছবি থাকা মানে এই নয় যে, তিনি তার পৃষ্ঠপোষক। যে কারও সঙ্গে বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মানুষ ছবি তুলতে চাইবেই। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার মানে এই নয় যে, ওই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সাহেদকে একজন প্রতারক জেনেও তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যখন কারও সঙ্গে ছবি তোলেন সেটি নেহাদ সৌজন্যবশত। এর পেছনে যদি কারও পৃষ্ঠপোষকতা থাকে, সেটি নিশ্চয়ই তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখবেন।

আরও পড়ুন  খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলো ইসি

 

এই ঘটনায় সাহেদ ছাড়াও অন্যান্য আসামি গ্রেফতারের জন্য র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা সব অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মূল আসামি সাহেদকে গ্রেফতারে র‌্যাবের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি। এ মামলার অন্যান্য আসামিও এই মুহূর্তে পলাতক রয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

 

সাহেদের মতো যদি এরকম আর কোনও প্রতারক থেকে থাকে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে র‌্যাব তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন আশিক বিল্লাহ।

 

সর্বশেষ সংবাদ