ই-ক্যাবের ৬ বছর পূর্তি উৎসব

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

ই-ক্যাবের ৬ বছর পূর্তি উৎসব

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর ৬ষ্ঠবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৮ নভেম্বর রবিবার বিকালে ৩টায় ঢাকাস্থ পূর্বাচল ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। ই-ক্যাবের সভাপতি জনাব শমী কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে করোনাকালীন সময়ে বিশেষ অবদানের জন্য ১২ জন ব্যক্তি ও ১০০টি সদস্য প্রতিষ্ঠানকে ই-কমার্স মুভার্স এ্যাওয়ার্ড ইকমা প্রদান করা হয়। এছাড়া ৩০ টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় বিশেষ সম্মাননা। তুলে ধরা হয় করোনাকালীন সময়ে ই-ক্যাব ও এর সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে ই-ক্যাবের পরবর্তী কর্মসূচী ‘‘ই-জিনিয়াস’’ হান্ট এর অ্যাপ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, করোনাকালীন সময়ে ই-ক্যাব নিত্য প্রয়োজনীয় সেবা থেকে শুরু করে জরুরী সেবা দিয়ে নগরবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী হয়েছে। সেবার মান ও আন্তরিকতার কারণে ই-কমার্সের প্রতি মানুষের আস্থা বহুগুণে বেড়ে গেছে। দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিসহ সার্বিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাণিজ্য সচিব. ড. জাফর উদ্দীন বলেন, ই-ক্যাব যখনি যে ধরনের সহযোগিতা চেয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষনিক-ভাবে সাড়া দিয়েছে। ই-ক্যাব তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি কর্মসূচীর যে সফল বাস্তবায়ন করেছে সেজন্য আমি ই-ক্যাব ও এর সকল সদস্যকে সাধুবাদ জানাই।

করোনাকালীন সময়ে ই-ক্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলা হয়, করোনার ৮ মাসে ই-কমার্স সেক্টরে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা, বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ডেলিভারি হচ্ছে প্রতিদিন, ৫০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, এযাবত মোট ৫ হাজার তরুণকে দেয়া হয়েছে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, ১৬ হাজার কোটি টাকার সার্বিক ডিজিটাল লেনদেন এর মাধ্যমে ৬০ লাখ মানুষকে সেবা প্রদান করেছে ই-ক্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো।

১২ ব্যক্তিত্বকে করোনা কালীন অবদানের জন্য এ্যাওয়ার্ড প্রদান করল ই-ক্যাব

ই-ক্যাবের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিগত করোনাকালীন সময়ে ই-ক্যাবের বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে যেসব ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকে ‘‘ই-কমার্স মুভার্স এ্যাওয়ার্ড – বা ইকমা প্রদান করে সম্মানিত করেছে ই-ক্যাব। আজ ৮ নভেম্বর পূর্বাচল ক্লাবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মাননা তুলে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-ক্যাব করোনাকালীন সময়ে দেশ, সরকার ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে সেবা দিয়েছে তা মাইলফলক হয়ে থাকবে। এসব কর্মসূচী বাস্তবায়নে যেসব ব্যক্তিবর্গ সহযোগিতা করেছে ও দায়িত্ব পালন করেছে তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ বেগম, সাবেক মহাপরিচালক জাতীয় মহিলা অধিদপ্তর। জনাব এনএমএম জিয়াউল আলম, সিনিয়র সচিব, আইসিটি মন্ত্রণালয়। জনাব ড জাফর উদ্দীন, সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা। জনাব ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জনাব এএইচএম সফিকুজ্জমানা, অতিরিক্ত সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জনাব মীনা পারভীন, অতিরিক্ত সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জনাব রেজওয়ানুল হক জামি, হেড অব ই-কমার্স, এটুআই, ড. সালেহ মাহমুদ তুষার, ডিরেক্টর কনসালটেন্ট ওলওয়েল বাংলাদেশ লি.। জনাব সদরুদ্দিন ইমরান, রিসার্চার। জনাব জাহাঙ্গীর আলম শোভন, জেনারেল ম্যানেজার, ই-ক্যাব।

ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, করোনাকালীন সময়ে নিত্য পণ্য, খাদ্য ঔষধ ও জরুরি সেবা ছাড়াও ডিজিটাল কুরবানি হাট, আম মেলা, লকডাউন এলাকায় পণ্য সরবরাহ, দরিদ্র মানুষকে সহযোগিতা ও অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রিসহ বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে ই-ক্যাব। এসব ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও সুচারু দায়িত্ব পালন ব্যতীত এসব কর্মসূচী সফলতা অর্জন করা সম্ভব ছিলনা। তাই এই ১২ জন মানুষকে সম্মানিত করতে পেরে ই-ক্যাব গর্বিত। তিনি বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য সরকারকেও ধন্যবাদ জানান।

করোনাকালীন সেবার জন্য ১০০ প্রতিষ্ঠান পেল ই-ক্যাবের ইকমা এ্যাওয়ার্ড

ই-ক্যাবের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে করোনাকালীন জনগণের দোরগোড়ায় নিত্য পণ্য, ঔষধ, জরুরী সেবা ও ই-ক্যাবের মানবসেবায় সহযোগিতার জন্য ই-ক্যাবের ১০০ সদস্য প্রতিষ্ঠানকে ই-কমার্স মুভার্স অ্যাওয়ার্ড ‘‘ইকমা’’ প্রদান করা হয়। আজ ৮ নভেম্বর ঢাকার পূর্বাচল ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই এ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন সময়ে ই-কমার্সের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। গৃহে থাকা মানুষের কাছে নিত্য পণ্য পৌঁছে দিতে যে চেষ্টা সাধনা ও পরিশ্রম ই-ক্যাব এবং এর সদস্য প্রতিষ্ঠান করেছে তা দেশের মানুষ মনে রাখবে। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে এই বিপর্যয়কালীন সময়ে সেবা দিয়ে নিত্য পণ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের প্রবৃদ্ধি কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য এটা ছিল একটা ইতিবাচক দিক।

১০০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা ই-ক্যাবের নিউজলেটার ই-কমার্স ভিউ এর নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশ করেছে ই-ক্যাব। এ্যাওয়ার্ড বিষয়ে ই-ক্যাবের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান জরুরী পণ্যসেবা দেয়ার জন্য আমাদের কাছ থেকে অনুমতি ও স্টিকার নিয়েছে। তাদের মধ্য থেকে যারা শুধুমাত্র নিত্য পণ্য, খাবার, ঔষধ, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সামগ্রী, জরুরী সেবা ও মানবসেবা প্রকল্পে সেবা সহযোগিতা দিয়েছে তাদেরকে বাছাই করা হয়েছে। প্রায় ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে সেরা ১০০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। এছাড়া আরো ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

ই-ক্যাবের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আজ ৮ নভেম্বর আসন্ন কর্মসূচী ‘‘ই-জিনিয়াস’’ হান্ট এর অ্যাপ উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ঢাকার পূর্বাচল ক্লাবে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম ভিত্তিক ডিজিটাল প্রতিভা অনুসন্ধানের কার্যক্রমের এই অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার শেষে ১০০০ শিক্ষার্থীকে ‘‘ই-জিনিয়াস’’ ঘোষণা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি বলেন, ৮ মাস ঘরে বসে কোনোরকম সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত। তাদের সহশিক্ষা কার্যক্রম প্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা ঘরে বসে করা, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ ও মূল্যায়ন সম্ভবত এটাই প্রথম। বিভিন্নভাবে সবসময় হয়ে থাকে কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচীর বাস্তবায়ন ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ডিজিটাল প্রজন্ম তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ বলেন, ঢাকা বিভাগের সকল স্কুল ও কলেজের শিশুরা ঘরে বসেই অ্যাপের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতায় তাদের গান, কবিতা, ছবি আঁকা কিংবা লেখার মাধ্যমে অংশ গ্রহণ করতে পারবে। তারা অ্যাপের মধ্যেই দেখতে পাবে তাদের সৃজনশীল কাজটি কতটা ভাল ও জনপ্রিয় হয়েছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা দেশে এটাই সম্ভবত প্রথম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব, অতিরিক্ত সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও যাচাই ডটকমের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 8
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ