দেশীয় ক্রিকেটে বঞ্চিত স্থানীয় ক্রিকেটার

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

দেশীয় ক্রিকেটে বঞ্চিত স্থানীয় ক্রিকেটার

তানজীল শাহরিয়ারঃ

প্রতিবার বিপিএল শেষে চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরোয় ক্রিকেট ভক্তদের ভেতর থেকে, দেশি ক্রিকেটারদের সুযোগ বাড়ানো আর ম্যাচের মোক্ষম সময়ে পরীক্ষা দেবার মওকা যে স্থানীয় ক্রিকেটাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী পান না। এবার প্রেসিডেন্ট কাপ আর বঙ্গবন্ধু টি২০ সে আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিচ্ছে বললে অত্যুক্তি হবে না। তবে, এর মাঝেও মিহি সুরে বাজছে এক অনুশোচনার বিউগল-উইকেটগুলো কি আরো কিছুটা রান প্রসবা করে তৈরি করা যেতো না, কিংবা, ভেন্যুর সংখ্যা বাড়ানো যেতো না। অবশ্য কোভিড-১৯ এর মহামারির কালে যা হচ্ছে তা নিয়েই সন্তুষ্টি কম নয়।

মিরপুরের উইকেট নিয়ে বরাবরই অভিযোগ। লো স্কোরিং ম্যাচ যেন এখানে নিয়মিত চিত্র। বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপেও ব্যাটসম্যানদের চরম রান খরায় ভুগতে দেখা গেছে। তাতে সব দায় উইকেট কে দিলে সুবিচার হয় না। একই ভেন্যুতে এত ম্যাচ হলে তা উইকেট থেকে শুরু করে আউটফিল্ড পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে এই বিষয় বুঝতে বিজ্ঞানী হবার আবশ্যকতা নাই। তবে, কোভিড-১৯ মহামারির দোহাই দিয়ে সবকিছু কে ঢাকা কেন্দ্রিক করে ফেলাটা উদ্ভাবনী চিন্তার অভাব বলা অযৌক্তিক বলা যাবে না। বন্দর নগরি চট্টগ্রাম, কিংবা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত সিলেটে খেলা আয়োজন করা অসম্ভব নয়। সুযোগ সুবিধাও একেবারে অপ্রতুল নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ৫ম ধনী ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ক্রিকেট অনুরাগিদের এমন প্রত্যাশা কে অবাস্তব কিংবা অবিবেচনা প্রসূত বলার সুযোগ নেই বললেই চলে।

জাতীয় দল, অ্যাকাডেমি দল ভিত্তিক এই দুই প্রতিযোগিতা। এসব ক্রিকেটার ছাড়া ঢাকা লিগ সহ অন্যান্য ঘরোয়া লিগ খেলে উপার্জন করে ‘ঘর চালান’ অনেক ক্রিকেটার। তাদের নিয়ে বিসিবি কী ভাবছে, সেটাও এখন অতি গুরুত্বপূর্ণ। শীত প্রায় এসেই পড়েছে। অন্যান্য বছর এমন সময় সারা দেশেই আঞ্চলিক খেলাধূলা আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়। এবার করোনার কারণে উৎসাহ, উদ্দীপনায় ভাটা পড়েছে। গতবার ঢাকায় ক্রিকেট আসরগুলো সম্পন্ন হয়নি। ফলে অনেক ক্রিকেটারই প্রত্যাশিত উপার্জন থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। এবারেও যদি ক্রিকেট লিগ আয়োজন না হয় কিংবা কাঁটছাঁট করে আয়োজন করা হয়, তাতে এসব লিগ নিয়ে সারা বছর আশায় বুক বাঁধা ক্রিকেটারদের উপার্জনের খাতায় জলোচ্ছ্বাস উঠবে, ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগোনো কুঁড়িগুলো হয়ত হারিয়েই যাবে।

দেশের ক্রিকেট অভিভাবক সংস্থা বিসিবির কাছে সাধারণ ক্রিকেটারদেরও প্রত্যাশা অনেক। ক্রিকেটারদের কাছে আশা-ভরসার প্রতীক বিসিবি। কারণ, স্থানীয় পর্যায়ের লিগ খেলে উপার্জনের সম্ভাবনা সীমিত। ঢাকা এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলো ক্রিকেট খেলোয়াড়দের জন্যে জীবনদায়ী। অনেক ক্রিকেটার শুধুমাত্র ক্রিকেট কে ধ্যানজ্ঞান করে বারোমাস মাঠে পড়ে থাকেন। মৌসুমে উপার্জন করে বছরের জন্যে নিশ্চিন্ত হবেন, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা কম নয়।

ক্রিকেটকে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং অবস্থান ধরে রাখতে জাতীয় দল, অ্যাকাডেমি দল, যুব দলের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে খেলা ক্রিকেটারদের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, তৃণমূল থেকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটাররা উঠে আসবে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট প্রতিযোগিতাগুলোর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিলে শিশু-কিশোরদের ক্রিকেট উৎসাহে ভাটা পড়বে। পাইপ লাইন বাধাগ্রস্ত হবে।

সাকিব, তামিম, মুশফিকদের পাশাপাশি উদীয়মান ক্রিকেটারদের কথা ভাবাও তাই বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। তাতে স্থানীয় পর্যায় থেকেই ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। কালেই তা একজন কে পরিপক্ব ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বহির্বিশ্বে ক্রিকেট জাতি হিসেবে মাথা উঁচু রাখতে ঘরের দিকে নজরদারিটা খুব মনোযোগ সহকারে দেওয়ার বিকল্প নাই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 73
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ