তুরস্কে অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগে আরো ৭ হাজার বরখাস্ত

প্রকাশিত: 2:01 PM, July 16, 2017

তুরস্কে অভ্যুত্থানচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরো সাত হাজারেরও বেশি পুলিশ, সেনা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই অভ্যুত্থানচেষ্টার বর্ষপূর্তির এক দিন আগে শুক্রবার সর্বশেষ এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে গত বছরের ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫০ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এক লাখেরও বেশি মানুষকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।

রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনায় সাত হাজার ৫৬৩ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫০ অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার রয়েছেন, যাদের পদবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্য একটি দৈনিক পত্রিকা জানিয়েছে, দুই হাজার ৩০০ পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিম ধর্মগুরু ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করা হয়ে থাকে। তবে তিনি অন্যান্য সময়ের মতো গত শুক্রবারও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পেনসিলভানিয়া থেকে এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ‘অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। আমি আবারও বলছি, এই ঘৃণ্য বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান এবং এর সঙ্গে জড়িতদের নিন্দা জানাচ্ছি। ’

আরও পড়ুন  হাসিনা পুত্র জয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ

১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ঘটনায় ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে উচ্ছেদ করার জন্য সেনাবাহিনী একদিকে যেমন রাস্তায় ট্যাংক নামিয়েছিল, তেমনি আকাশে উড়ছিল বোমারু বিমান। তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসায় অভ্যুত্থানকারীদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেন। বিশেষ করে গুলেনের সমর্থকদের ওপর ধরপাকড়ের তাণ্ডবটা বেশি চলে। মানবাধিকারকর্মী ও পশ্চিমা দেশের সরকার তাঁর কর্মকাণ্ডকে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ অভিহিত করে সমালোচনা শুরু করে। এ ঘটনায় গুলেন স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন। সেই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ধরপাকড় করার সমালোচনা করেন।

গুলেন বলেছেন, ‘নিরপরাধ ব্যক্তিদের যাচ্ছেতাইভাবে আটকের ঘটনায় তুরস্কের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ তৈরি হচ্ছে। ’

গতকাল শুক্রবার অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিশেষ আলোচনার জন্য সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান যোগ দেবেন। রাত ২টায় ভাষণ দেবেন তিনি। গত ১৫ জুলাই রাত ২টায় বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সময়টাকেই ভাষণ দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি। এ সময় রাজধানীতে তাঁর প্রাসাদের বাইরে নিহতদের স্মরণে তৈরি করা স্মৃতিসৌধ উম্মুক্ত করা হবে। প্রথম বছরপূর্তিতে তুরস্কজুড়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে ইস্তাম্বুলের রাস্তায় বিশাল বিশাল বিলবোর্ড-পোস্টার টানানো হয়েছে, সেসবে অভ্যুত্থানবিরোধী জনগণকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন  করোনা আমার জন্য সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ : ট্রাম্প

ইস্তাম্বুলের বসফোরাস সেতুর যেখানে জনগণ অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী বিদ্রোহী সেনাদের মোকাবেলা করেছে, সেখানেও অন্য এক শোভাযাত্রায় এরদোয়ানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।   সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ