সিলেট | |
প্রকাশিত: 1:27 PM, December 3, 2020
কোটিপতি চাষি সাহিদা বেগমকে জিজ্ঞেস করি, কৃষিকাজে আগ্রহী হলেন কী করে? হাসিমাখা মুখে তিনি বলেন, ‘কৃষিকাজ এত পরিশ্রম আর ধৈর্যের কাজ যে শুরুতে ভালো লাগত না। কিন্তু একটা সময় পেঁয়াজের বীজ নিতে আসা ক্রেতাদের উৎসাহ আর আগ্রহ সে কষ্ট আর কষ্টই মনে হয় না। আয়ও বাড়তে থাকল। উৎসাহও বাড়ল।’
কৃষির প্রতি অনুরাগ: সাহিদা বেগমের বাড়ি ফরিদপুর পৌরসভার গোবিন্দপুর গ্রামে। স্বামী মো. বক্তার হোসেন খান একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের কর্মকর্তা। এই দম্পতির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মেরিনা আক্তারকে বিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর। ছোট মেয়ে মার্জিয়া আক্তার পড়ছে নবম শ্রেণিতে।
ধানমাড়াই থেকে ঢেঁকিতে চাল ছাঁটা—সবই করতে হতো। সাহিদা জানালেন, প্রথমে কষ্ট ও বিরক্তি লাগত। তবে শাশুড়ি জোহরা বেগমকে নিরন্তর গৃহস্থালির কাজ দেখে সাহিদাও অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। একসময় কৃষিকাজের প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগ জন্মায়। কৃষক পরিবারটি একসময় ধান, পাট, গম, ছোলা, প্রভৃতি শস্যই চাষাবাদ করত। ২০০৪ সাল থেকে শুরু করে পেঁয়াজের বীজ চাষ।
এ বছর ৩০ একর জমিতে চাষ করে ২০০ মণ পেঁয়াজের বীজ পেয়েছেন। প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে দুই লাখ টাকায়। এ বছর বীজের দাম বেশি হওয়ায় তাঁর আয়ও হয়েছে বেশি। সাহিদার স্বামী বক্তার পৈতৃকসূত্রে চার একর জমির মালিক। বাকি জমি এলাকাবাসীর কাছ থেকে ইজারা কিংবা বর্গা নিয়ে তিনি চাষ করেছেন। আগামী বছর তাঁর লক্ষ্য ৩৫ একর জমিতে চাষ করার।
সারা দেশে সাহিদার পেঁয়াজবীজ: সাহিদা বেগম বাড়ি থেকেই পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করেন। ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সাহিদার বীজ কিনতে আসেন। এর মধ্যে পাবনা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জে চাহিদা বেশি। ‘খান বীজ’ নামে মোড়কজাত করে বিক্রি করেন তিনি।
সহযোগী এবার নারী শ্রমিক: সাহিদা বেগমের জমিতে সাধারণত নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এলাকার কৃষিশ্রমিকেরা কাজ করেন। চলতি বছর করোনার কারণে উত্তরবঙ্গের নিয়মিত শ্রমিকদের পাননি। এ জন্য সমস্যার অন্ত ছিল না। তবে সমস্যা ঘোচে এলাকার একটি তুলা মিলের অর্ধশত নারী শ্রমিককে পেয়ে। দেশজুড়ে লকডাউনের সময় এই নারীরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এখনো তাঁরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন।
অনেকের অনুপ্রেরণা: পেঁয়াজের বীজ চাষে সাহিদার সাফল্য দেখে এ কাজে এগিয়ে এসেছেন এলাকার অনেকেই। সালাউদ্দিন শেখ (৩৯) তাঁদেরই একজন। সালাউদ্দিন পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শেষে চাকরি খুঁজছিলেন। চাকরি না পেয়ে হতাশায় যেন ডুবে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সাহিদা চাচি ও বক্তার চাচা বেশ কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজের বীজ চাষ করছেন। তাঁদের দেখে আমিও গত বছর থেকে শুরু করি। এ বছর আমি এক একর জমিতে চাষ করে ১৭ মণ পেঁয়াজের দানা পেয়েছি।’

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি