সিলেট | |
প্রকাশিত: 2:13 PM, April 25, 2021
প্রভাতবেলা ডেস্ক:
কিন্তু সম্প্রতি বিএনপির সঙ্গে মির্জা আব্বাসের সম্পর্কে যেন দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়ে তার এক বক্তব্যে এই দূরত্ব আরও প্রকট হয়েছে। এই দূরত্বের জেরে আব্বাসের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ছিন্ন হতে পারে বলেও গুঞ্জন চলছে দলের অন্দরে। যদিও রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা এই ইস্যুতে বিএনপি এবং আব্বাস—উভয়পক্ষকেই বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
এর মধ্যে গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়ে নতুন তত্ত্ব দেন। ৯ বছর আগে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হয়েছিলেন ইলিয়াস আলী।
এ নিয়ে বিএনপি তথা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। দলীয় হাইকমান্ডের চাপের মুখে পড়েন আব্বাস। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির এই নেতা তার বক্তব্য বিকৃত করার দায় চাপান গণমাধ্যমের ওপর।
এ কারণে ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়ে দেয়া তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২২ এপ্রিল আব্বাসকে নোটিশ পাঠায় বিএনপি। যদিও এ ধরনের কোনো নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি আব্বাস অস্বীকার করে চলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি এ ধরনের চিঠি দেয়া হয়ে থাকে তবে সেটা দুর্ভাগ্যজনক।’ তাছাড়া আব্বাস নিজের বক্তব্য থেকে ‘ইউটার্ন’ করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
একাধিক সূত্র বলছে, কোন্দলের ধারাবাহিকতায় বিএনপির একটি অংশ মির্জা আব্বাসকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে চায়। তারা এখন আব্বাসের ‘বেফাঁস’ বক্তব্যের সুযোগ নিচ্ছে। যদিও ইলিয়াস আলী ইস্যুতে আব্বাস যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দলের নীতির পরিপন্থী। তবে বিষয়টি নিয়ে আব্বাসের বিরোধীপক্ষ যেভাবে তাকে ‘শিক্ষা দেয়ার’ মিশনে নেমেছে, তাতে একসময়ের এই প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে দলটির সম্পর্কও ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হতে পারে। আর তা যদি হয়, তাতে ব্যক্তি মির্জা আব্বাস যেমন কিছুটা বেকায়দায় পড়বেন, তেমনি বর্তমান পরিস্থিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপিও।
আব্বাসের প্রতি সহনশীল এমন একাধিক বিএনপি নেতার মতে, হাইকমান্ডের উচিত হবে মির্জা আব্বাসের প্রতি সর্বোচ্চ সহানুভূতি রাখা, কারণ তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, এটা তার অনুসারীদের কেউ বিশ্বাস করবে না। তিনি হয়তো বক্তৃতায় রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করেছেন। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে দল এবং আব্বাসের অস্বস্তি দূর করার দায়িত্ব হাইকমান্ডের। আর আব্বাসেরও উচিত হবে ভুল বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। এর ব্যতিক্রম হলে সেটা বিএনপি বা আব্বাস—কোনো পক্ষের জন্যই ভালো হবে না।
এদিকে আব্বাসকে বিএনপির তরফ থেকে গত ২২ এপ্রিল যে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, তার জবাব দেয়ার শেষ দিন শনিবার (২৪ এপ্রিল)। এদিনই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি